
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতেন ৯০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ও চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আব্দুস সাত্তার এবং তার স্ত্রী ৭৬ বছর বয়সী সুরাইয়া বেগম। তাদের সঙ্গে থাকতেন গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)। নিহত দম্পতির চার সন্তানই যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার দরজা বন্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে নিহত দম্পতির পরম এক আত্মীয় বিষয়টি বুঝতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতি ও গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে।
কী কারণে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো রহস্যের মধ্যে রয়েছে।
নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপরই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুস সাত্তারের হাউজিং, আইপিসহ বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। পরিবারের দাবি, তার কোনো প্রকাশ্য শত্রুও ছিল না। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, ৯০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ ও তার স্ত্রীকে কেন হত্যা করা হলো?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?
নিজের ঘর, নিজের বিছানা, নিজের চার দেয়ালের মধ্যেও যদি একজন বৃদ্ধ দম্পতি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ? একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল? অপরাধীরা কীভাবে এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে?
আইন কি শুধু ঘটনার পর তদন্ত করার জন্য? নাকি অপরাধ ঠেকানোরও কোনো দায়িত্ব রয়েছে?
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জনগণের স্পষ্ট প্রশ্ন, আমরা কি নিরাপদ? আমাদের মা বাবা, দাদা দাদি, বৃদ্ধ স্বজনরা কি নিজেদের ঘরেও নিরাপদ? নাকি আমরা সবাই পরবর্তী কোনো মর্মান্তিক ঘটনার অপেক্ষায় থাকব?
কেউ নির্দোষ থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত হোক, এটি আমরা চাই না। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
আজ প্রশ্নটি শুধু আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের পরিবারের নয়। প্রশ্নটি পুরো সিলেটবাসীর, আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?
Leave a Reply